ধ্বংশের মূখে হাতি
গত ৫০ বছরে ৬৯% বণ্যপ্রাণী কমেছে !
পর্যটক

গেল পঞ্চাশ বছরে ব্যাপকহারে বণ্যপ্রাণীর সংখ্যা কমেছে। বৃক্ষ নিধন,বন উজার, বায়ুদূষণ, সাগর ও ভূমি দূষণের কারণে কমেছে এই বন্যপ্রাণীর সংখ্যা, ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড সংক্ডষেপে ব্লিউডব্লিউএফ এ তথ্য জানিয়েছে।
 
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ডব্লিউডব্লিউএফ ও জুলজিকাল সোসাইটি লন্ডনের যৌথভাবে প্রকাশি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গড়ে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা ১৯৭০-২০১৮ সাল পর্যন্ত ৬৯ শতাংশ কমেছে।
বিশ্বের ৫২৩০ প্রজাতির ৩২ হাজার বণ্যপ্রাণীর ওপর এই গবেষণা চালানো হয়েছে। 
এই তথ্যই বলে দেয় আমরা কীভাবে জীবনের উৎস ধ্বংস করছি এবং পরিস্থিতি দিনকে দিন খারাপের দিকেই যাচ্ছে। জীববৈচিত্র্যের এই বিলুপ্তি ঠেকাতে এবং গুরুত্বপূর্ণ ইকোসিস্টেম (বাস্তুতন্ত্র) আগের অবস্থায় ফেরাতে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্যের মতো বিষয়গুলোকে প্রথান এজেন্ডা করতে হবে।
এর মধ্যে শিকারীদের কারণে শিকার এবং বাসস্থানের ক্ষতির কারণে বিশ্বজুড়ে হাতির সংখ্যা দ্রূত হ্রাস পাচ্ছে। আফ্রিকায়, আনুমানিক ৩৫০,০০০ হাতি আছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, কেনিয়া, তানজানিয়া, জাম্বিয়া, অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়া, রুয়ান্ডা, মোজাম্বিকে এদের পাওয়া যায়।
আপর দিকে বিশ্বব্যাপী মাত্র ৪০,০০০ এশীয় হাতি আজ জীবিত, তিনটির মধ্যে একটি বন্দী অবস্থায় আছে। ভারত, বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, বার্মা, থাইল্যাণ্ড ভারতীয় হাতির মূলআভাস।
আরেকটি হতাশাজনক পরিসংখ্যান: প্রতিদিন, চোরা শিকারীরা তাদের হাতির দাঁত, মাংস এবং শরীরের অঙ্গগুলির জন্য প্রায় 100টি আফ্রিকান হাতিকে হত্যা করে, যা এই রাজকীয় দৈত্যদের প্রজনন করতে পারে তার চেয়ে দ্রুত।
হাতিদের দুর্দশার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং তাদের পক্ষে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য 2012 সালে বিশ্ব হাতি দিবস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
হাতি বিশ্বের বৃহত্তম স্থলচর স্তন্যপায়ী। প্রোবোসিডিয়া বা শূণ্ডধারী বর্গের একমাত্র জীবিত বংশধর। যাদের জাতভাই ছিল ম্যামথ,যারা বিলুপ্ত। শুঁড়কে হাত/হস্ত-এর মত ব্যবহার করতে পারার জন্য এর নাম "হাতি" বা"হস্তী" নামকরণ করা হয়।
হাতির তিনটি প্রজাতি মধ্যে দুটি আফ্রিকান যা লক্সোডন্টা আফ্রিকানা ও লক্সডন্টা সাইক্লোটিস গোত্রের এছাড়া এশীয় হাতি এলিফাস ম্যাক্সিমাস। প্রাপ্তবয়স্ক হাতির উপরের ইনসিসর দাঁত দুটি লম্বা হয়ে গজদন্ত তৈরি করে। তবে এশীয় হাতির শুধু মাত্র পুরুষ হাতিরই দাঁত গজায়।
হাতি দলবদ্ধ হয়ে বাস করে। সবথেকে শক্তিশালী দাঁতাল হাতি দলপতি হয়ে থাকে। দলের কেন্দ্রে বাচ্চাদের রেখে ঘিরে থাকে মা-দাদীমা হস্তিনীগণ।
বাচ্চারা বড় হলে দলের বাইরের সারীতে স্থান নেয়। দলছুটও হতে থাকে। এছাড়াও পরিণত দাঁতালরা নিজেদের দল গঠনের চেষ্টা করে থাকে। তরুণ দাঁতালরা বড় হবার মওসুমে কানের সামনে অবস্থিত "মস্তগ্রন্থি"র অত্যধিক ক্ষরণে মত্ত বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং দলপতি বা অন্য দাঁতাল বা যেকোন শাসনকারীকে এমন কী মাহুতকেও আক্রমণ করে। তখন দলপতি লড়াই বা আত্মগোপনের চেষ্টা করতে পারে।
দন্তহীন পুরুষ হাতিদের বলে মাকনা। এরা মাদী হাতিদের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে, এবং দাঁতালদের অজ্ঞাতসারে মাদী হাতিদের সাথে মিলিত হয়ে বংশবিস্তার করতে পারে।
হাতির গর্ভকাল প্রাণীরাজ্যে দীর্ঘতম- ২২ মাস। হাতি একশ বছর বাঁচে বলা হলেও হাতিরা আসলে ৬০-৭০ বছরের বেশি বাঁচে না। এর বড় কারণ এদের জীবদ্দশায় ছয়বার কষদাঁত বের হয়। খাবার চিবিয়ে চিবিয়ে ক্ষয়ে যায় বলে কষদাঁতের শেষ সেট ষষ্ঠ দশকে গজায়, যা ক্ষয়ে যাবার পর অনাহারে হাতীদের মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে।
বিজ্ঞানদের ধারণা অগভীর জলে নাাসিকা দিয়ে নিশ্বাস নিতে সুবিধা হওয়ায় প্রোবোসিডিয়াদের জলচর পূর্বপুরুষদের নাক লম্বা হয়ে শুঁড়ে বিবর্তিত হয়েছিল।
এদের নিকটতম স্তন্যপায়ী আত্মীয়রা হল ডুগং, মানাটি, সমুদ্র-গাভী ইত্যাদি। যারা জলচর সিরেনিয়া বর্গের অন্তরভুক্ত। এদের শরীরবৃত্তীয় অনন্যতা হল যে জন্মের পরে এদের ফুসফুসের আবরণ শূন্যস্থান সংযজক কলা দ্বারা ভরাট হয়ে যায়।
লম্বা শূঁড়ের ডেড স্পেস সমেত হাওয়া টানবার জন্যে এত বেশি ঋণাত্মক বায়ুচাপ করতে হয় যে প্লুরা গহ্ভর শূন্য থাকলে রক্তবাহ ফেটে তার মধ্যে রক্তপাতের সম্ভাবনা থাকত।
 

সর্বশেষ সংবাদ

পর্যটন এর আরো খবর