সর্বশেষআঞ্চলিক

যশোরে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে তৈরি দুর্গা মন্দির

প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে দুর্গামন্দিরের দৃষ্টিনন্দন তোরণ

মন্দিরের প্রবেশদ্বারের সুন্দর আর্চওয়েটি 7,000টি যশোরে পরিত্যক্ত ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে তৈরি।

যশোরে

এটা দেখতে প্রতিদিনই আসছেন বহু মানুষ। পরিবেশ দূষণের বিষয়ে সচেতনতা আনতে যশোরে বিমানবন্দর সড়কে গোরাপাড়া সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সামনে এই গেটটি নির্মাণ করা হয়েছে। হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন মন্দির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত।

গত শনিবার রাতে ওই পূজামণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, গোরাপাড়া এলাকায় হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের পূজার জন্য একটি স্থায়ী মন্দির রয়েছে। মূল সড়ক থেকে মন্দিরের প্রবেশমুখে অস্থায়ী তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। প্লাস্টিকের বোতল এই তোরণের প্রধান উপাদান। তিনজন কারিগর প্রায় ৭,০০০ ছোট প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করে এই নান্দনিক এবং অসাধারণ খিলান তৈরি করেছেন। তোরনা থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে গোরাপাড়া সার্বজনীন পূজামণ্ডপ। রাস্তার দুপাশে এবং উপরে মরিচের বাতি স্থাপন করা হয়েছে। মন্দিরের সামনের জায়গাটা পরিষ্কার।

দুর্গা, অসুর, গণেশসহ মন্দিরে স্থাপিত সব প্রতিমার গায়ের রং পরিবর্তন করা হয়েছে। এবারের প্রতিমায় সবুজ রঙের প্রাচুর্য রয়েছে। গোরাপাড়া এলাকার বাসিন্দারা পুজোয় সব সময়ই নতুন কিছু করে থাকেন। খিলানগুলোর সৌন্দর্যের পাশাপাশি ভাস্কর্যেও রয়েছে বৈচিত্র্য। এবার খালি জলের বোতল থেকে তোরণ তৈরি করে চমকে দিল মন্দির কমিটি। সুন্দর তোরণ দেখে পর্যটকরাও মুগ্ধ।

চুরমনাকাঠি সংঘের কয়েকজন মন্দির দর্শনার্থী জানান, যশোরে প্রতিটি মন্দিরে দুর্গাপূজাকে ঘিরে নতুন আকৃতিতে প্রতিমা ও তোরণ নির্মাণের রীতি রয়েছে, যা দেখার মতো। তবে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল থেকে খিলান তৈরির ধারণা তিনি এই প্রথম দেখেছেন।

যশোরে

তোরণের প্রধান পরিকল্পনাকারী সজিব দাস বলেন, ছয় মাস ধরে বিভিন্ন দোকান থেকে ৭,২০১টি ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ করা হয়েছে। যশোরে মন্দিরের মূল ফটকটি তৈরি করতে তিন কারিগরের তিন মাস সময় লেগেছে। বোতলগুলো একে অপরের সাথে পাতলা তারের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। এ ছাড়া কাপড় ও বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে।

যশোরে গোরাপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি ভারত দাস বলেন, প্রতি বছর দুর্গাপূজার সময় ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করা হয়। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, শুধু যশোর নয়; সারা দেশে যেভাবে আর্চওয়ে তৈরি করা হয়, আমাদের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হওয়া উচিত। সেই ভাবনা মাথায় রেখেই এ বছর পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা ছড়াতে ফেলে দেওয়া খালি প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করে খিলান তৈরি করা হয়েছে। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪০ হাজার টাকা।

ভারত দাস বলেন, গত বছর পূজার সময় ভারতের দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে গোরাপাড়ায় তোরণ নির্মাণ করা হয়। গত বছর একটি দৈত্যের মাথা তৈরি করা হয়েছিল। মন্দিরের প্রবেশদ্বারটি অসুরের মুখ দিয়ে স্থাপন করা হয়। এটা শিল্পকর্ম ছিল। মন্দিরের খিলান দেখতে প্রতি বছর এখানে সর্বস্তরের মানুষ আসেন।

আরও পড়ুন

দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাবান্ধায় যত দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button