স্পট লাইট টু ব্রিটেন
বিএম জুলফি

সম্প্রতি বৃটেনের রানী প্রয়াত হওয়ার পর তার পুত্র নির্ঝঞ্ঝাটে মসনদে বসলেও ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে কেউই থিতু হতে পারছেন না! সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তার মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই বিদায় নিতে বাধ্য হন।
এরপর ঋশি পুনাক ও লিজ ট্রাস এর মধ্যে লড়াই শেষে লিজ ট্রাস শেষ হাসি হাসলেও এতো দ্রুত যে তা কান্নায় রূপান্তরিত হবে কে জানতো!
 
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস পদত্যাগ করেছেন এই খবর এখন সবারই জানা। কিছুদিন ধরেই তার সরকারের অর্থনৈতিক নীতি ও কর্মসূচি নিয়ে তার প্রশাসন ও কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যে নজিরবিহীন তোলপাড় চলছিল।
ইতোমধ্যে তার সরকারের দুজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এবং ডজনেরও বেশি এমপি প্রকাশ্যেই তার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে তার পদত্যাগ দাবির প্রেক্ষাপটে লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে পদত্যাগের কথা জানান দেন লিজ ট্রাস।
 
ব্রিটেনের রাজনৈতিক ইতিহাসে লিজ ট্রাস হচ্ছেন সবচেয়ে স্বল্পস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী। তিনি মাত্র ৪৫ দিন ক্ষমতায় ছিলেন।
 
বিবৃতিতে তিনি বলেন, যে ম্যানডেটের ভিত্তিতে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই ম্যানডেট তিনি পূরণ করতে অপারগ। তাই তিনি রাজা তৃতীয় চার্লসকে তার পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন, এবং এক সপ্তাহের মধ্যে কনসারভেটিভ পার্টি তার উত্তরসূরীকে বেছে না নেয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
কনজারভেটিভ পার্টিতে তার উত্তরসূরী নির্বাচনের জন্য আবার ভোটাভুটি হবে। আগামী শুক্রবারেই নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ার ফল জানা যাবে।
যদিও বিরোধীদল লেবার পার্টির নেতা কিয়ের স্টার্মার অবিলম্বে নতুন সাধারণ নির্বাচন দাবি করেছেন। লিবারেল ডেমোক্র্যাট এবং স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টিও নতুন নির্বাচন দাবি করেছে।
এখন সবার মুখে প্রশ্ন কেন লিজ ট্রাসকে পদত্যাগ করতে হলো?
প্রথমতঃ লিজ ট্রাসের ঘোষিত অর্থনৈতিক কর্মসুচির ব্যর্থতা ও দ্বিতীয়তঃ তার নিজ দলের এমপির মধ্যে আস্থা ও সমর্থন হারানোর জন্যই তাকে পদত্যাগ করতে হলো।
নিম্ন কর হার এবং উচ্চ প্রবৃদ্ধির ব্রিটেন গড়ে তোলার অঙ্গীকার লিজ ট্রাস করে ছিলেন । তা তিনি পারেননি।
লিজ ট্রাসের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপোর ফলে ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ডের দর পড়ে যায়, তার সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধি, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্রিটেনের অর্থনীতির সংকট অল্প কয়েকদিনের মধ্যে এক গুরুতর চেহারা ধারণ করে।
যার জের ধরে আর্থমন্ত্রী মি. কোয়ার্টেং পদত্যাগ করেন।েএবং নতুন অর্থমন্ত্রী জেরেমি হান্ট এসে সেই পরিকল্পনার অধিকাংশই বাতিল করে নতুন পরিকল্পনা হাজির করলে অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসলেও কনজারভেটিভদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে থাকে যে মিজ ট্রাসের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ব্যর্থ হবার পর ক্ষমতায় থাকার আধিকার তার নেই।
এর পরই কনজারভেটিভ পার্টির এমপিরা এক এক করে লিজ ট্রাসের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে তার পদত্যাগের দাবিকে জোরালো করে তোলে।
এর ফলে লিজ ট্রাস প্রশাসনে, দলে ও পার্লামেন্টে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। তারই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রাভারম্যানও পদত্যাগ করেন। 
এরপর গত বৃহস্পতিবার নাগাদ অন্তত ১৩ জন টোরি এমপি প্রকাশ্যে অনাস্থা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করায় এটা ষ্পষ্ট হয়ে যায় যে ট্রাস ক্ষমতা হারাতে বসেছেন।
নতুন করে যে প্রশ্নটি সামনে তা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী কী ভাবে, কে হবেন?
সাধারণত কনজারভেটিভ পার্টির ভেতরে নির্বাচনের প্রক্রিয়া মাসাধিক কাল ধরে চলে। এমপিরা কয়েকজন প্রার্থীকে নির্বাচিত করেন এবং তাদের মধ্যে যিনি পার্টি সদস্যদের গরিষ্ঠ ভোট পান তিনিই প্রধানমন্ত্রী হন।
তবে এখন অপেক্ষার পালা, যে সাবেক বিশ্ব শাসকদের শেষ দূর্গে কে অধিষ্ঠিত হন।
 

সর্বশেষ সংবাদ

উপসম্পাদকীয় এর আরো খবর