৯ ম্যাচ পর ওয়ানডেতে জিতল ক্যারিবীয়রা

টানা তিন সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়ে ওয়ানডেতে টানা ৯ ম্যাচ হারের মুখ দেখেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরাজয়ের বৃত্ত থেকে অবশেষে বেরিয়ে এসেছে নিকোলাস পুরানের দল। নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ক্যারিবীয়রা।
 
অপরদিকে, ওয়ানডে সুপার লিগের প্রথমবারের মতো হারের স্বাদ পেল কিউইরা। টানা ৯ ম্যাচ জয়ের পর দশমবারে এসে তাদের পরাজয় বরণ করতে হল।
 
১০ ম্যাচে ৯ জয় ও এক হারে ৯০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে আছে নিউজিল্যান্ড। সমান ৯০ পয়েন্ট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ষষ্ঠ স্থানে থাকলেও তারা ২২ ম্যাচ খেলে ফেলেছে। বাছাইপর্ব খেলার শঙ্কায় থাকা ক্যারিবীয়দের জন্য এই জয় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
 
১৮ ম্যাচ খেলে ১২০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে থেকে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার দ্বারপ্রান্তে আছে বাংলাদেশ। সমান ম্যাচে ১২৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।
 
বুধবার ব্রিজটাউনে বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাতে শুরু হওয়া ম্যাচে টসে হেরে আগে ব্যাট করা কিউইরা ৪৫.২ ওভারে ১৯০ রানেই অলআউট হয়। জবাবে স্বাগতিকরা ১১ ওভার ও ৫ উইকেট হাতে রেখে অনায়াসেই জয় তুলে নেয়।
 
উদ্বোধনী জুটিতে মার্টিন গাপটিল ও ফিন অ্যালেন ৪১ রানের জুটি গড়ার পর সফরকারীদের নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে। ১২২ রানের মধ্যে ৬ ব্যাটার সাজঘরে ফিরলে বেশ চাপে পড়ে কেন উইলিয়ামসনের দল। মিচেল ব্রেসওয়েল ও মিচেল স্যান্টনার সপ্তম উইকেটে ৪০ রান যোগ করে দলীয় স্কোরকে দেড়শ ছাড়াতে ভূমিকা রাখেন।
 
নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং অর্ডারের শেষটা মুড়িয়ে দিতে ক্যারিবীয়রা বেশি সময় নেয়নি। ২৮ রান যোগ করেই শেষ ৪ উইকেট হারায় ব্ল্যাক ক্যাপস।
 
পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে খেলতে নামা সফরকারীদের ব্যাটাররা কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। সর্বাধিক ৩৪ রান করেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। এছাড়া মিচেল ব্রেসওয়েল ৩১, দিন অ্যালেন ও মিচেল স্যান্টনার ২৫, মার্টিন গাপটিল ২৪ ,ড্যারিল মিচেল ২০ ও টম ল্যাথাম ১২ রান করেন।
 
স্বাগতিক বোলারদের পক্ষে তিনটি করে উইকেট পান আকিল হোসেন ও আলজারি জোসেফ। এছাড়া জেসন হোল্ডার ২টি উইকেট ঝুলিতে ভরেন। অভিষিক্ত অফ স্পিনার কেভিন সিনক্লেয়ার অভিজ্ঞ টম ল্যাথামকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন। ব্রেসওয়েলকে একইভাবে আউট করেন আরেক অভিষিক্ত বাঁ হাতি লেগ ব্রেক বোলার ইয়ানিক ক্যারিয়া।
 
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ভালো ছিল না। ৩৭ রানের মধ্যেই তারা দুই ওপেনারকে হারিয়ে বসে। শাই হোপ ২৬ ও কাইল মায়ার্স ৬ রান করেন। ১১ রান করা কেসি কার্টিকে যখন স্যান্টনার লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে ক্রিজ ছাড়া করেন, তখন ক্যারিবীয়দের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৭৪ রান।
 
চতুর্থ উইকেটে শামারাহ ব্রুকস ও অধিনায়ক নিকোলাস পুরান ৭৫ রানের জুটি গড়ে লো স্কোরিং ম্যাচের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেন। ২৮ রান করা পুরান উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে জুটি ভাঙে।
 
ম্যাচ সেরা ব্রুকস ৯১ বলে ৯ চার ও এক ছক্কায় ৭৯ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে ট্রেন্ট বোল্টের বলে বোল্ড হন। যদিও তখন জয়ের বেশ কাছেই ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জারমেইন ব্ল্যাকউড ও জেসন হোল্ডার বাকি কাজটুকু সহজেই সেরে নেন।
 
কিউইদের পক্ষে ট্রেন্ট বোল্ট ও টিম সাউদি পান ২ উইকেট। একটি উইকেট শিকার করেন মিচেল স্যান্টনার।

খেলা এর আরো খবর