ভিনদেশি অপ্রয়োজনীয় ও অপসংস্কৃতি বর্জনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আকাশ সংস্কৃতির বদৌলতে অনুপ্রবেশ করা ভিনদেশি অপ্রয়োজনীয়, বিজাতীয় ও অপসংস্কৃতির সবকিছু বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আজ বৃহস্পতিবার শিল্পকলা পদক ২০১৯ ও ২০২০’ প্রদান অনুষ্ঠানে বঙ্গভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ আহ্বান জানান রাষ্ট্রপ্রধান।
 
শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিল্পকলা পদক ২০১৯ ও ২০২০’ পদক প্রদান করা হয়। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও  সংস্কৃতি সচিব মো. আবুল মনসুর। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে.এম খালিদের সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিল্পকলা একাডেমির একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।
 
রাষ্ট্রপতি বলেন, অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসমৃদ্ধ সংস্কৃতির বিকাশে তৃণমূল পর্যায়েই উদ্যোগ নিতে হবে। তাই তাদেরকে সুস্থ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে ব্যক্তি, পারিবারিক, সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে। এসময় তিনি সংস্কৃতির চর্চা তৃণমূল, বিশেষ করে পরিবার থেকেই শুরু করার তাগিদ দেন।
 
রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, সামাজিক অবক্ষয়রোধে সংস্কৃতি হচ্ছে রক্ষাকবচ। সমাজ থেকে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, হিংসা-বিদ্বেষ দূর করতে সংস্কৃতির বিকাশ খুবই জরুরি। গ্রাম থেকে শহর, নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত প্রতিটি স্তরে সংস্কৃতির র্চচা যত বেশি হবে, সমাজ ততবেশি আলোকিত হবে।
 
ছোটো ছোটো ছেলেমেয়ে আর যুব সম্প্রদায় ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, গেমসসহ বিভিন্ন অ্যাপসের  পেছনে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত। তাদের কাছে মোবাইল আর ল্যাপটপই বিনোদন আর খেলাধুলার প্রধান সামগ্রী। এভাবে চলতে থাকলে, তারা নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্যকেই একদিন ভুলে যাবে।
 
আবদুল হামিদ বলেন, ‘মুজিব শতবর্ষ’ উদযাপনের অংশ হিসেবে শিল্পকলা একাডেমি  আয়োজিত বিভিন্ন  কার্যক্রম দেশে-বিদেশে বিশেষ করে তৃণমূল র্পযায়ে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও র্কম এবং তাঁর শিল্প ও সাংস্কৃতিক ভাবনা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের তৃণমূল পর্যায়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে আবহমান কালের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সর্ম্পকে সচেতন করতে হবে’।
 
সংস্কৃতিকে জীবনের দর্পণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের সংস্কৃতির বিকাশ ও ঐতিহ্য জানিয়ে দেয় যে, জাতি হিসেবে আমরা কতটা উন্নত ও আধুনিক। তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজকে আধুনিক, দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে হলে তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।  জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আমাদের সংস্কৃতি প্রধান অস্ত্রের ভূমিকা রাখতে পারে।
 
অনুষ্ঠানে ২টি সংগঠন ও ১৮ জন শিল্পীকে ‘শিল্পকলা পদক’ প্রদান করা হয়।
 
শিল্পকলা পদক’ ২০১৯ ও ২০২০ প্রাপ্ত গুণীজনরা হলেন- নাট্যকলায় মাসুদ আলী খান  ও মলয় ভৌমিক,  কণ্ঠসঙ্গীতে হাসিনা মমতাজ ও মাহমুদুর রহমান বেণু, চারুকলায় আবদুল মান্নান ও শহিদ কবীর, চলচ্চিত্রে অনুপম হায়াৎ ও শামীম আখতার, নৃত্যকলায় লুবনা মারিয়াম ও শিবলী মোহাম্মদ, লোকসংস্কৃতিতে শম্ভু আচার্য্য ও শাহ আলম সরকার, যন্ত্রসঙ্গীতে মো. মনিরুজ্জামান ও মো. সামসুর রহমান, ফটোগ্রাফিতে এম এ তাহের ও আ ন ম শফিকুল ইসলাম স্বপন, আবৃত্তিতে হাসান আরিফ (মরণোত্তর) ও ডালিয়া আহমেদ। সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে শিল্পকলা পদক পায়- ছায়ানট ও দিনাজপুর নাট্য সমিতি।
পদকপ্রাপ্ত প্রত্যেককে একটি করে স্বর্ণপদক, সনদপত্র এবং ১ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়। পদক প্রদান শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় বরেণ্য ও প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীরা।

জাতীয় এর আরো খবর