ঢাকায় আজ শুরু ‘বিশ্ব শান্তি সম্মেলন’

ঢাকায় বিশ্ব শান্তি সম্মেলন শুরু হচ্ছে শনিবার। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিকেল সাড়ে ৪টায় এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সম্মেলনে ৫০টি দেশের ১০০ জন প্রতিনিধি অংশ নেবেন।
 
সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তি প্রতিষ্ঠার বিশ্ব স্বীকৃতি হিসেবে জুলিও কুরি পুরস্কার পেয়েছিলেন। এ কারণে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ শান্তি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তিতে বিশ্বাসী। জাতিসংঘে শান্তির সংস্কৃতির যে রেজুলেশন, সেটিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তা থেকেই এসেছে। তার নেতৃত্বে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে স্থলসীমান্ত নির্ধারণ, সমুদ্রসীমার নিষ্পত্তির বিষয়গুলো শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসিত হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ববাসীকে শান্তির বার্তা দিতে চায়। সেই বার্তা দিতেই এ সম্মেলনের আয়োজন।
 
সম্মেলন উপলক্ষে একটি ওয়েবসাইট খোলা হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের ৬০ জন প্রতিনিধি ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন। আর বাকি ৪০ জন সশরীরে অংশ নেবেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন, যুক্তরাজ্যের সাবেক ফার্স্ট লেডি চেরি ব্লেয়ার, সিঙ্গাপুরের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গোহ চক তং, নোবেল বিজয়ী মানবাধিকার কর্মী কৈলাশ সত্যার্থী, ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা। তারা সবাই ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন। এ ছাড়া সশরীরে অংশ নেবেন ইউনিভার্সিটি অব কলম্বোর উপাচার্য অধ্যাপক চান্দ্রিকা এন ওয়াজেয়ারত্নে, ভারতের চলচ্চিত্রকার গৌতম ঘোষ, ভারতের সাবেক মন্ত্রী সুরেশ প্রভুসহ বিভিন্ন দেশের কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, মানবাধিকারকর্মী, চলচ্চিত্রকার, থিঙ্কট্যাঙ্ক ও সাবেক রাজনীতিকরা।
 
সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগের দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকায় আগত আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে একটি নৈশভোজ হয়। এর আগে সকালে 'পিস, জাস্টিস অ্যান্ড রাইটস' ও 'পিস থ্রু সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ওয়েলবিং' শিরোনামে দুটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
 
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন রোববার আরও দুটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এ দুটির শিরোনাম হচ্ছে, 'পিস থ্রু ইন্টার-ফেইথ ডায়ালগ, কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ' এবং 'পিস অ্যান্ড ইমার্জিং গ্লোবাল ট্রেন্ডস'। এ ছাড়াও সম্মেলনের শেষ দিন 'ঢাকা শান্তি ঘোষণা গ্রহণ করা হবে'। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রোববার বিকেলে শান্তি সম্মেলন সমাপ্ত হবে।

জাতীয় এর আরো খবর