পাশা উল্টে গেল!
বি. আহমেদ

এতোদিন এশিয়া এফ্রিকা দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো সামরিক অস্ত্রের জন্য এমেরিকা,ইউরোপের বিভিন্ন দেশের দিকে তাকিয়ে থাকলেও কিছু দিন যাবৎ উল্টো চিত্রই দেখা যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বিগত কয়েক বছর যাবৎ নয়া কৌশলগত অস্ত্র তৈরীর নয়া কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ইরান। ইরানে ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে রেজা শাহ পাহলভীর পতনের পর অনেক চড়াই-উৎরাই পার হয়ে বর্তমান আবস্থানে এসেছে। এবং মার্কিন যুক্তরাষ্টের রক্তচক্ষুকে অবজ্ঞা করে এমন এক স্থানে এসে দাঁড়িয়েছে যে,অন্যতম পরাশক্তি রাশিয়াতেও তার দুর্দিনে ইরানের মূখাপেক্ষী হতে হচ্ছে।
ইয়ামেনের হুথি  বিদ্রোহীদের সাফল্যের পর এবার  ইউক্রেন-রাশিয়ার বুদ্ধে ইরানের ড্রোন এখন প্রধান আলোচিত অস্ত্র।
এই অস্ত্রর বিশেষত্ম হচ্ছে যে, এটা রাডার ফাঁকি দিয়ে খুব নীচে দিয়ে ২,৫০০ কিমি পথ উড়ে যেয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাৎ হানতে পারে। এবং নির্দেশ না পওয়া পর্যন্ত আক্রমনের জন্য অপেক্ষাও করতে পারে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে ইরানের এই ড্রোনে, বিশ্ব গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হচ্ছে কয়েক সপ্তাহ ধরে। এটা নিয়ে এখন দারুণ ক্ষোভে ফুঁসছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বশক্তি গুলো।
এর মধ্যে আরও নতুন খবর যে রাশিয়াকে আরও ড্রোন ও ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিতে কথা দিয়েছে ইরান। 
৬ অক্টোবর ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবারের নেতৃত্বাধীন একটি দল রাশিয়া সফরে রাশিয়াকে ড্রোন ও নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার এ প্রতিশ্রুতি দেয় ইরানের সফরকারী দলের দেশটির শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সদস্যগণ।
এ ব্যাপারে সফরকারী দলে থাকা ইরানের এক শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, রাশিয়া আরও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র চায়। বিশেষ করে ফাতেহ ও জুলফাগার ক্ষেপণাস্ত্র চায় রাশিয়া।
রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ড্রোন ও জুলফাগার ছাড়াও ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপারে চুক্তিও হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান শহীদ-১৩৬ ‘কামিকাজে’ ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোনগুলো সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে। আর ফাতেহ-১১০ ও জুলফাগার ক্ষেপণাস্ত্র ৩০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
ইউক্রেন বলে আসছে, রাশিয়ার সেনারা শহীদ-১৩৬ ড্রোন ব্যবহার করে তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তবে রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করার কথা অস্বীকার করে আসছে ইরান। রাশিয়াও ইউক্রেনে ইরানি ড্রোনে হামলা চালানোর কথা প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গতকাল মঙ্গলবার নিয়মিত ভাষণে বলেছেন, তাঁর দেশে রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের তৈরি ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহারের বিষয়টি ক্রেমলিনের সামরিক ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বেরই প্রতীক। ইরানের কাছে এ ধরনের ড্রোন সহায়তার আবেদনের মাধ্যমে ক্রেমলিন তার সামরিক ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব স্বীকার করে নিয়েছে বলে দাবী করছে।
ইউক্রেন অভিযোগ করছে কিয়েভে তাদের বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে কামিকাজি ড্রোন হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। এখন এই কামিকাজি ড্রোনটা আসলে কী?
এটা মূলত বিস্ফোরক বহন করে লক্ষ্যের দিকে ছুটে যায় এবং কোথাও ইমপ্যাক্ট বা ধাক্কা লাগার পরই বিস্ফোরণ ঘটায় ও একই সাথে ড্রোনটিও ধ্বংস হয়ে যায়।
তবে ধারণা করা হচ্ছে যে এই ড্রোনটি ইরানের তৈরি। যার নাম শাহেদ ওয়ান থার্টি সিক্স। এই ড্রোনকে রাশিয়ায় ডাকা হয় জেরানিয়াম টু বলে।
ধারণা করা হচ্ছে যে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ থেকে ইউক্রেনে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে রুশ বাহিনী। সেখানে তাদের সাহায্য করছেন ইরানের সামরিক বাহিনীর ড্রোন বিশেষজ্ঞরা। সেনাদের ড্রোন চালানোর প্রশিক্ষণও দিচ্ছে তাঁরা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ দাবি করেছে। 
এই কামিকাজি ড্রোন কতগুলো আছে- রাশিয়ার সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু জানা যায় না, তবে যুক্তরাষ্ট্র দাবী করছে ইরান কয়েকশ ড্রোন পাঠানোর পরিকল্পনা করছে রাশিয়ায়, 
তবে ইরান এটি অস্বীকার করেছে এবং ক্রেমলিনও এমন দাবী উড়িয়ে দিলেও আসল ঘটনা যে উড়িয়ে দেবার মতো নয়, তা অনেকেই বিশ্বাস করছেন।(চলবে)
 

সর্বশেষ সংবাদ

অন্তরালের খবর এর আরো খবর