দেশের মানুষ কেমন আছে?
বিএম জুলফি

বাংলাদেশের মানুষ কেমন আছে? এমন প্রশ্নের উত্তর যে নেতিবাচকই হবে তা বলাই বাহুল্য আসলে দেশের স্বল্প আয়ের মানুষ তো বটেই নিদিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্তরা ভালো নেই।
চট্টগ্রামের জাফর এখন ঢাকার বাসিন্দা।ঢাকাতেই বড় হয়েছেন। মানিক মিয়া এ্যাভেনিউয়ের খেজুর বাগান মোড়ে ফুটপাতে আনারস ও আমড়া কেটে বিক্রি করেন।তাতেও আর এখন সংসার চলে না। তাই বউও কাজ করেন।
 
দুই ছেলেমেয়ে সহ সংসারের মানুষ মাত্র ৪জন হলেও জাফর যা আয় করেন। তা দিয়ে শুধু ঘরভাড়ার টাকাটা ওঠে। সংসার চলে তার স্ত্রীর আয়ের টাকায়।
জাফর বললেন,সেই যে দেশে করোনা এলো তার পর থেকেই ব্যবসা নাই। আগে প্রতিদিন তিন চার হাজার টাকার বিক্রি হতো হাজার-পনের’শ টাকা লাভ থাকতো। কিন্তু এখন সারাদিনে দেড় হাজার টাকার খাবারও বিক্রি হয়না। তাই যা আয় হয় তা দিয়ে ঘর ভাড়া দিতেই শোধ হয়ে যায়।
জাফর বলেন, “মানষের হাতে টাকা নাই,তাই কেনা-বেচা কমে গেছে।”
কিন্তু সরকারে মূখপাত্ররা দিবারাত্রি ঢোল বাজাচ্ছেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে।
 
কিছুদিন আগে আমাদের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ তথ্য দেন বাংলাদেশে গত ১৩ বছরে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে। ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে প্রায় তিন গুণ!
 
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশে গত ১৩ বছরে মানুষের মাথাপিছু আয় ৬০০ ডলার থেকে ২ হাজার ৬০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। প্রতিটি মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে।’
বাস্তবে মানুষের আয় বৈষম্য বেড়েছে। করোনাকালের পরিসংখ্যানই বলে দেয় দেশের কোটিপতির সংখ্যা কত দ্রুত বাড়ছে।
 
তথ্য মন্ত্রী বলেন, ‘হারিকেন, চেরাগ, কুপি, বাতি এখন ড্রয়িংরুমে সাজিয়ে রাখতে হবে। গত ১০ বছরে কৃষিতে যে উন্নয়ন হয়েছে, তাতে শিশুরা এখন হালের বলদ চেনে না।  আজকে দেশ বদলে গেছে। কবিতায় কুঁড়েঘর আছে। বাস্তবে সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না। যে ছেলে ১২ বছর আগে বিদেশ গেছে, সে এসে শহর-গ্রাম চিনতে পারে না। আজ শহরের একটি ছেলের সাথে গ্রামাঞ্চলের ছেলের বেশভূষার কোনো পার্থক্য নেই।’
 
তথ্য মন্ত্রীর সাথে সুর মিলিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিও বলেছেন, দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। গ্রামের মানুষ এখন সকালে ঘুম থেকে উঠেই দোকানে গিয়ে চা খায়। মানুষের এখন আয় বেড়েছে, তাই আগে যে এক কাপ চা খেতো, এখন সে দুই কাপ চা খায়।
যেন চা খাওয়াই আর্থনীতির সূচকের পরিমাপক !
 
অথচ ক’মাস পরেই দেশের মূখের মেক-আপটা খসে পড়ে দেশের আসল চেহারা মানুষের কাছে ষ্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এখন গ্রাম তো বটেই মহানগরের মানুষদের হাতেও সরকার হ্যারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে।
এমন কথামালার রাজনীতি আর কতদিন চলবে তা কেউ কী জানে!
 
এতকিছুর  মাঝেও সরকার স্বপ্ন দেখাচ্ছে, ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ২০১০ থেকে ২০২০ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। এখন আশাই ভরসা!
 

সর্বশেষ সংবাদ

মানবাধিকার এর আরো খবর