যুদ্ধ নয় শান্তি চাই:কেউ কি বেঁচে আছে মারিয়ুপোলের ইস্পাত কারখানার বাঙ্কারে?
বিশেষ প্রতিবেদক

 
ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের আজ ৬৬তম দিন পার হয়ে যাচ্ছে। কার্যত ধ্বংসস্তূপের উপরে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বের ৩য় বৃহত্তম শস্য রপ্তানীকারিক দেশটা।
লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহীন হয়ে দেশ ছেড়েছেন।প্রাণ হারিয়েছেন সামরিক ও বেসামরিক মিলিয়ে হাজার হাজার মানুষ।
রুশ বাহিনীর গোলা থেকে বাঁচতে আজ়ভস্টল ইস্পাত কারখানার নীচে বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছিলেন মারিয়ুপোলের হাজার খানেক মানুষ। বন্দর-শহরটি রাশিয়ার দখলে যাওয়ার পরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নির্দেশ দিয়েছিলেন, কোনও হামলা যেন না-করা হয়। শুধু কারখানা থেকে বেরনোর সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হোক। বাস্তব পরিস্থিতি তার থেকেও ভয়ঙ্কর। 
উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়েছে যে, কারখানার প্রতিটি ব্লকের ছাদে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। আকাশ থেকে বোমা ফেলে ফেলে কার্যত গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পুরো ঐ শিল্প অঞ্চল টিকে। কারখানার ভিতরেও  অনেক এলাকা ধ্বসে পড়েছে। এক-একটি বাড়ি যেন সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপ হয়ে যুদ্ধের বিভীষিকাকে নির্দেশ করছে। 
আজ়ভ রেজিমেন্টের কর্তারা আশঙ্কা, মাটির নীচে আদৌ কেউ বেঁচে আছে কি না ! কমান্ডার শিতোস্লাভ পালামার বলেন, ‘মাত্র৪ মাসের বাচ্চাও ছিল ওখানে। ১৬ বছরের কিশোরও ছিল। ওরা এমনভাবে আটকে আছে যে, বেঁচে থাকলেও উদ্ধার করতে যাওয়ার কোনও যে পথ নেই।’
পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর-শহর মারিয়ুপোল। যুদ্ধের গোড়া থেকে এটিকে দখল করতে মরিয়া ছিল রাশিয়া। কিন্তু ইউক্রেনের বাহিনী ও সাধারণ মানুষের প্রতিরোধে প্রায় দু’মাস লেগে গিয়েছে সেই লক্ষ্যপূরণ করতে। তারই পরিণতি হিসেবে রোজই শোনা যাচ্ছে, রুশ হামলার নৃশংস বাৎচিৎ। 
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি বলেছেন, ‘‘ডনবাসে যাতে কোনও প্রাণ না-বাঁচে, তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর ছিলো রাশিয়া।’’
ডনবাস এলাকায় পোপাসনায় দু’টি উদ্ধারকারী বাস পাঠানো হলেও খোঁজ মেলেনি কোনওটির। ইউক্রেণের সেনাকর্তা মিকোলা খানাতোভ জানিয়েছেন, একটি বাস রুশ হামলার মুখে পড়েছে। এটুকু খবর তাদের কাছে আছে। কিন্তু দ্বিতীয় বাসটির সম্পর্কে কিছুই জানা যায় নি। মিকোলা জানান, স্থানীয় এক ইতিহাসের শিক্ষক বাসটি নিয়ে উদ্ধারে গিয়েছিলেন।  ইতিপূর্বে আর একটি বাসও পাঠানো হয়েছিল। সেটি ৩১ জনকে উদ্ধার করে এনেছিল। 
 এদিকে নিখোঁজ বাস দু’টিকে খোঁজার চেষ্টা করারও উপায় নেই। ইউক্রেন প্রশাসন জানিয়েছে, গোটা ডনবাস এলাকা এখন জ্বলছে। উত্তর-পূর্বে খারকিভ শহরেও হামলা চলছে সমানতালে। 
একটি হাসপাতালেও বোমা ফেলে রাশিয়ানরা। দু’টি নয়-তলা আবাসনেও আকাশপথে হামলা করা হয়েছে।  এতে আগুন ধরে যায় সেই বাড়ি দু’টিতে। 
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও ঘোষণা করেছে, তারা ডনবাস এলাকায় একাধিক ইউক্রেনীয় সেনাঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। জানা গেছে, রাশিয়ার হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৯ বছর বয়সি তারাবালকা স্টেফান। যাকে ‘কিভের ভূত’নামে ডাকা হত। বলা হয়ে থাকে একা ৪০টি রুশ যুদ্ধবিমানকে ঘায়েল করেছিলেন সেই ফাইটার পাইলট। গত ১৩ মার্চ তাঁর মিগ-২৯-কে গুলি করে নামায় রুশ বাহিনী। তারাবালকাকে ইউক্রেনীয়রা ভালবেসে বলতেন ‘ঈশ্বরের পাঠানো রক্ষক’।
মস্কো অবশ্য এই গোটা পর্বকে ‘বিশেষ সেনা অভিযান’ বলে চালিয়ে গেলেও পশ্চিমি রাষ্ট্রগুলোর আশঙ্কা, এ ভাবে আর বেশি দিন নয়। কারণ সামনেই ৯ মে রাশিয়ার বিজয় দিবস। ওই দিন ক্রেমলিন যুদ্ধ সমাপ্ত ঘোষণা করতে পারে । গত দু’মাসে সেই অর্থে ইউক্রেনের খুব অল্প অংশই দখল করতে পেরেছে রাশিয়া।
আমরা যুদ্ধ নয় শান্তি চাই। তাই চাই উভয় পক্ষের সুমতি হোক। শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থানের অধিকার নিশ্চিত করে তারা আবারও শান্তিময় পৃথিবী গড়ার কাজে নামুক এই প্রত্যাশা।
 
 

সর্বশেষ সংবাদ

মানবাধিকার এর আরো খবর