রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষর না করলেও বিশ্বের নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে রয়েছে সবসময়। যার অন্যতম উদাহরণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
 
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অত্যাচারে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গার জন্য সীমান্ত খুলে দিয়ে নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনন্য নজির রাখেন তিনি। শুধু আশ্রয় দেয়া নয় রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নত করতে এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নিরন্তর কূটনৈতিক লড়াই তাকে আলাদা করেছে অন্যান্য বিশ্বনেতা থেকে।
 
২০১৭ সালের ২৫শে আগষ্ট। হঠাৎ করেই বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। মিয়ানমার সীমান্তের ওপাড়ে তখনও আগুনে জ্বলছে নিরীহ মানুষের ঘরবাড়ি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক কথায় খুলে দিলেন সীমান্ত। আশ্রয় দিলেন লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে।তখন নেদারল্যান্ডস এর ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিন প্রচ্ছদ প্রতিবেদন করে ‘শেখ হাসিনা : মাদার অব হিউম্যানিটি’ শিরোনামে।
 
তারপর থেকেই চলছে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সাহায্য সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ফেরত পাঠানোর কূটনৈতিক তৎপরতা। তার প্রচেষ্টাতেই পরের বছর জানুয়ারিতে মিয়ানমারের সাথে প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনসহ স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে পাঁচ দফা এবং ৭৪তম অধিবেশনে চার দফা প্রস্তাব রাখেন শেখ হাসিনা।
 
রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা অভিযোগ নিয়ে আন্তজার্তিক আদালতে গিয়েছে গাম্বিয়া। ভুক্তভোগী দেশ হিসেবে ওই মামলায় গাম্বিয়াকে সবরকম সহায়তা দিয়ে গেছে বাংলাদেশ।
 
রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নত করতে শেখ হাসিনার সর্বশেষ প্রচেষ্টা ভাসানচরে এক লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত। যদিও শুরুতে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর সায় ছিলো না এতে।
 
কূটনৈতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হবে যে তিনি প্রথম থেকেই একটা পরিকল্পনার মধ্যে দিয়ে এই সমস্যা মোকাবেলা করেছেন। অনেকেই বলেছিল যে আমরা ভাসানচরকে ওইভাবে ব্যবহার করতে পারবো না কিন্তু আমরা তা করে দেখিয়েছি। ভাসানচরকে এখন আমরা আরও অনেক কিছু করতে পারবো যেহেতু সেখানে একটা কাঠামো তৈরি হয়েছে।
 
শেখ হাসিনার কূটনৈতিক সাফল্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনও শুরু হবে এই আশা এখন।

মানবাধিকার এর আরো খবর