নজরুলের উপন্যাস : উপন্যাসের নজরুল
আবদুল হালিম :


কাজী নজরুল ইসলামের যে কল্পনাচিত্র আমরা মনের গহিনে এঁকে রেখেছি তা হচ্ছে নজরুল একজন কবি। তবে নজরুল যে শুধু মাত্র বিদ্রোহী কবি তা কিন্তু নয়। বরং নজরুল প্রেমের কবি, আত্মার কবি। কিন্তু কোন এক কারণে নজরুলের অপরাপর বিষয়কে বস্তা বন্দি করে কোথায় রেখে দেয়া হয়েছে। শুধু মাত্র আলোচনা চলে নজরুলের বিদ্রোহী ভাবটা নিয়ে। বর্তমান সময়টা অবশ্য নজরুল গবেষণার জন্য মোটামুটি ভাল একটা সময়। নজরুলের সংগীত নিয়ে গবেষণা চলছে। আজ আমি নজরুলের উপন্যাস নিয়ে সামান্য আলোচনার চেষ্টা করবো। যে বিষয়টি আজকালকার গবেষকদের মনেই নেই। আমার উদ্দেশ্য শুধু তাদের স্মরণ করে দেয়া।

নজরুল একজন বড়মাপের উপন্যাসিক ছিলেন এব্যাপারে নজরুল পাঠকদের কোন দ্বিধা নেই। পৃথিবীর ইতিহাসে যে ক'জন মানুষ বিচিত্রগামী ছিলেন তাদের মাঝে অন্যতম আমাদের নজরুল। কিন্তু দুঃখের বিষয় নজরুলকে নিয়ে সেই অর্থে কোন গবেষনাই হয়নি। যাও কিছু হয়েছে তা খন্ডিত। আমি নজরুলকে দেখতে পাই আপন সৃষ্টিতে সফল এক মানুষ। আমি আজ নজরুলের উপন্যাস নিয়ে আলোচনা করবো। সকলেই জানেন "কুহেলিকা" নজরুলের শ্রেষ্ট একটি সৃষ্টি। এই উপন্যাস নজরুল পাঠকদের মন ছোঁয়ে যায়। আমিও পড়েছি। বারবার পড়েছি। তবে প্রথমে আমি ইহা পড়ি যখন ক্লাস সেভেনে থাকতে। আমাদের মাদ্রাসার লাইব্রেরীতে বইটি দেখে নিয়ে নিলাম। কিন্তু মর্ম এবং আবেদন উপলব্দি করতে পারিনি। পড়ার জন্য পড়েছি।

অত:পর আস্তে আস্তে নজরুল আমার অস্তিত্বে ভর করলেন। নজরুলের আনাগোনা শুরু হলো উপলব্দির গভীরে। চিন্তার জগতটা কিছু আলো ছড়ালো। এখন আর পড়ার জন্য পড়তে ইচ্ছে হলো না। উপলব্দি করতে মন চায়। গভীর ভাবে নজরুলে ডুব দেয়ার ইচ্ছা জাগলো।

আজ নজরুলের উপন্যাস "কুহেলিকা"র মূল চরিত্র "জাহাঙ্গির" পার্শ্ব চরিত্র আরো আছে। তবে আমাকে ভবিয়েছে জাহাঙ্গিরের জন্ম সংক্রান্ত বিদ্রোহের বর্ণনা। বন্ধু হারুণের সাথে হারুণের বাড়ীর দিকে যাত্রা। হারুণের পাগলী মায়ের অদ্ভুত আচরণ। তাঁর অন্ধ পিতা, খোন্দকার সাহেব সহ তাঁর দুই বোনের চরিত্র, সাথে উপন্যাসের সংলাপগুলো গভীর মনস্তাত্বি ভাব বহন করে। সবমিলে আমার গভীরে এমন অনুভুতির সৃষ্টি হলো যা লিখে বুঝানো আদৌ সম্ভব নয়। উপর্যুক্ত উপন্যাসে শুধু নজরুলের সময়কার পেক্ষাপট নয় বরং বর্তমান সময়ের নিম্নভিত্ত বাঙালির বাস্তব রূপটা ফুটে ওঠেছে। এই উপন্যাসকে প্রকৃত বাঙালী সমাজের অদ্ভুত প্রকাশ বলা যেতে পারে।

নজরুল সম্পর্কে দু'একজন গবেষকের কথা দিয়েই শেষ করবো আজকের আলোচনা।

অনেকে বলে থাকেন নজরুলে কাব্য সত্তা আর গদ্য সত্তা সমান সমান। "নজরুলের ৪২টি কাব্য গ্রন্থের পাশাপাশি ৪১টি গদ্যগ্রন্থের তালিকা প্রদত্ত হয়েছে।"

ড. সৈয়দ আসগর আরো বলেন : "তাঁর গদ্য কবির গদ্য, তিনি গদ্যের কবি।"

(সূত্র : নজরুলের গদ্যরচনা : ভাবলোক ও শিল্পরূপ)

নজরুলের উপন্যাস নিয়ে কথা বললে দেখি তাঁর দুটি উন্যাস রয়েছে। এক. কুহেলিকা। দুই. মুত্যুক্ষুধা।

"১৩৩৪ সালের আষাঢ় মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত "মাসিক নওরোজ" পত্রিকায় "কুহেলিকা" উন্যাসের প্রথম অংশ প্রকাশিত হয়। কিছুদিন পর নওরোজ বন্ধ হয়ে গেলে "সওগাতে" ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়। তার দ্বিতীয় উপন্যাস "মৃত্যুক্ষুধা" ১৩৩৪ সালের অগ্রহায়ণ সংখ্যা থেকে ফাল্গুন সংখ্যা পর্যন্ত ধারাবাহিক ছাপা হয়।" ( সূত্র: নজরুলের গদ্য সাহিত্য)

নজরুলকে আমাদের বিচিত্র গামী করে উপস্থাপন করতে হবে। নজরুল যে বিশাল তার বিশালতাকে ছড়িয়ে দিতে হবে আকাশে। আসুন আমরা নজরুলের উপন্যাসের ব্যাপরটা নিয়ে আরো বেশী কথা বলি। নয়তো একদিন এবিষয়টা আমাদের সাহিত্যের অতীত হয়ে যাবে।

আমি জানি আমার আজকের আলোচনা গভীর হয়নি। হাটু পানিতে সাতার কাটার চেষ্টা করেছি মাত্র।

বিডি ইউএসএ নিউজ২৪.কম/সো/২৩ জুলাই ২০১৪

সর্বশেষ সংবাদ