দখলমুক্ত নজরুল-প্রমীলার স্মৃতিময় তেওতা জমিদার বাড়ি
বিডি ইউএসএ নিউজ :


বাস্তুহারাদের হাত থেকে অবশেষে মুক্ত হলো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও তার পত্নী প্রমীলা নজরুলের স্মৃতিময় তেওতা জমিদার বাড়ি।

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার এই জমিদারবাড়িতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে নজরুল ও প্রমীলার অনেক স্মৃতি। এই বাড়িতেই প্রমীলা দেবীকে দেখে মুগ্ধ নজরুল লিখেছিলেন ‘তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়/সেকি মোর অপরাধ’।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেওতা জমিদার বাড়িটির বয়স ৩শ বছর ছাড়িয়েছে। এই জমিদার বাড়িতে এবং এর আশে পাশে যমুনার ভাঙনে সর্বস্ব হারানো প্রায় শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল।

বাস্তুহারা এই মানুষগুলোর অবাধ বিচরণ ছিল বাড়িটিতে। মানুষগুলোর অসচেতনতায় দিন দিন শ্রী হারাতে থাকে জমিদার বাড়িটির। নষ্ট হয়ে যায় অনেক মূল্যবান কীর্তি। বাড়িটি ও এর আশ-পাশের স্থান হয়ে উঠে নেশা ও অসামাজিক কাজের আস্তানা।

স্থানীয়রা জানান, জমিদার বাড়িটি নজরুল-প্রমীলার স্মৃতিধন্য একটি স্থান। এখানে নজরুলের বেশ কিছু স্মৃতি খুঁজে পাওয়া গেছে। তাই বাড়িটিকে সংরক্ষণ করে এর হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা দরকার। বাস্তুহারা মানুষগুলো বাড়িটির ভেতর গরু-ছাগল পালন করে এবং যেখানে সেখানে বাস করে এর পরিবেশটাই নষ্ট করে ফেলেছিল।

তারা আরও জানান, বাড়ির ভেতরে নেশা ও বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ চলতো। এদের উচ্ছেদের মাধ্যমে এলাকার পরিবেশটি ভাল হয়ে উঠছে।

জেলার ইতিহাস থেকে জানা গেছে, সপ্তদশ শতকের শুরুতে পাচুসেন নামের পিতৃহীন দরিদ্র এক কিশোর তার সততা আর চেষ্টায় তামাকের ব্যবসা করে অর্জন করে বিপুল ধন সম্পদ। দরিদ্র পাচুসেন দিনাজপুরের জয়গঞ্জে জমিদারী কিনে হয়ে যান পঞ্চানন সেন। তারপর তিনি শিবালয়ের তেওতায় এই জমিদার বাড়িটি তৈরি করেন।

জমিদার বাড়ির মূল ভবনের উত্তর দিকের ভবনগুলো নিয়ে হেমশংকর এস্টেট এবং দক্ষিন দিকের ভবনগুলো নিয়ে ছিল জয়শংকর এস্টেট। প্রতিটি এস্টেটের সামনে বর্গাকৃতির অট্টালিকার মাঝখানে আছে নাটমন্দির। পুর্বদিকের লালদিঘী বাড়িটি ছিল জমিদারদের অন্দর মহল। অন্দর মহলের সামনে দুটি শানবাঁধানো ঘাটলা, এর দক্ষিন পাশের ভবনের নীচে আছে চোরা কুঠুরী যাকে এলাকার মানুষেরা বলে অন্ধকুপ। উত্তর ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ৪ তলা বিশিষ্ট ৭৫ ফুট উচ্চতার নবরত্ন মঠ। এর ১ম এবং ২য় তলার চারিদিকে আছে ৪টি মঠ। তেওতা জমিদার বাড়িটি ৭.৩৮ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত।

বাড়িটি দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে অনেক পর্যটকও আসে। বাস্তুহারা মানুষদের কারণে বাড়িটির সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। গত ১২ জুন এদের উচ্ছেদের পর এখন বাড়িটির সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

বিডি ইউএসএ নিউজ২৪.কম/সো/৫ জুলাই ২০১৪

 

সর্বশেষ সংবাদ