যথাযোগ্য মর্যাদায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন উদযাপিত
বিডি ইউএসএ নিউজ :


‘নজরুল ও অসাম্প্রদায়িকতা’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঢাকাসহ সারাদেশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৬তম জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারো ঢাকাসহ সারাদেশে কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার মধ্যে দিয়ে জন্মজয়ন্তীর কর্মসূচি শুরু করেন।

জাতীয় পর্যায়ে দিবসটি উদযাপনের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর হাইস্কুল মাঠে তিন দিনব্যাপি আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, কবি নজরুল ঐশ্বরিক প্রতিভা নিয়ে জন্মেছিলেন। তিনি সমাজে মানবসৃষ্ট বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, নজরুলের অনন্য সৃষ্টি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। তিনি কবি নজরুলের আদর্শ অনুসরণ করে সমৃদ্ধ দেশ গড়তে জাতিকে আহ্বান জানান।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, বিদ্রোহী কবি নজরুল এদেশের স্বাধীনতা কামী মানুষের মনে বিদ্রোহী চেতনার বীজ বপন করেছিলেন। তার সেই অনুপ্রেরণাকে চেতনায় ধারণ করেই আমরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম এবং বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলাম। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেও কবি নজরুলের দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর একান্ত চেষ্টায় কবিকে ঢাকায় আনা হয়। তিনি কবিকে জাতীয় কবির মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করেন। সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশে আজ ধর্মীয় বিভক্তি সৃষ্টি করতে চায়। নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে আমরা সেই চক্রান্ত প্রতিহত করবো। একটি সামপ্রদায়িকতামুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবো।

আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে এই আলোচনায় অংশ নেন ধর্ম মন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, সংস্কৃতি সচিব ড. রণজিত্ কুমার বিশ্বাস, কবি মুহাম্মদ নুরুল হুদা, এবং ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী।

বিদ্রোহী কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নজরুল ইনস্টিটিউট রাজধানীতে সাত দিনব্যাপি বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কবির সমাধিতে পুষমস্তবক অর্পণ, আলোচনা, সার্টিফিকেট বিতরণ,গ্রন্থমেলা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

গণগ্রন্থাগার অধিদফতর ও নজরুল ইন্সটিটিউটের যৌথ উদ্যোগে গণগ্রন্থাগার অধিদফতর প্রাঙ্গণে সাত দিনব্যাপী বইমেলা উদ্বোধন করা হয়। অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বইমেলার উদ্বোধন করেন। গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাফিজুর রহমান এবং নজরুল ইন্সটিটিউটের কর্মকর্তাবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সহায়তায় কবির জন্মজয়ন্তী জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তন প্রাঙ্গণে সাত দিনব্যাপি এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। নজরুল ইন্সটিটিউট আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে কবি নজরুলের বিরল আলোকচিত্রসমূহ প্রদর্শন করা হচ্ছে। অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক কামরুন্নাহার খানম এসময় উপস্থিত ছিলেন। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ প্রদর্শনী চলবে।

এদিকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী কবির জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে গতকাল এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে আজ সকালে শোভাযাত্রাসহকারে কবির সমাধিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন। পরে কবির মাজার প্রাঙ্গণে আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে কবির স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, নজরুল গবেষক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, কবির নাতনী খিলখিল কাজী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সমাজের অসমতা, প্রতিবন্ধকতা, সামপ্রদায়িকতা, অন্যায় ও অবিচার দূর করতে কবি নজরুল কলমকে ব্যবহার করেছেন। নারী-পুরুষ বৈষম্য নিরসন এবং নারীর মর্যাদা, সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের নজরুল চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি সত্, নিরহংকার, নির্লোভ, অসামপ্রদায়িক চেতনা সম্পন্ন আদর্শ জাতি গঠনের আহ্বান জানান। জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সকালে কবির সমাধিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কবির স্মৃতি বিজড়িত কুমিল্লা ও মুরাদনগর উপজেলার দৌলতপুরে নজরুল মেলা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গতকাল সকালে নজরুল স্মৃতি স্তম্ভ ‘চেতনায় নজরুল’-এ পুষ্পার্ঘ্য অপর্ণ করা হয়। বিকালে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে নজরুলের জীবন ভিত্তিক আলোকচিত্র ও পুস্তক প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য হাজী আকম বাহাউদ্দিন বাহার। ডেপুটি কমিশনার তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এতে সভাপতিত্ব করেন।

কবির স্মৃতিবিজড়িত চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় দু’দিনব্যাপি নজরুল জন্মজয়ন্তীর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কার্পাসডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এসব কর্মসূচীর মধ্যে ছিল শোভাযাত্রা, নজরুল সঙ্গীত, নজরুলের কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ। দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদ আয়োজিত এ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, ১৯৩৭-৩৮ সালে কাজী নজরুল ইসলাম কার্পাসডাঙ্গায় আসতেন এবং স্বদেশী আন্দোলনকে সংগঠিত করতেন।

এদিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও চুয়াডাঙ্গা জেলা শিল্পকলা একাডেমি নজরুলের জন্মদিন উপলক্ষে যৌথভাবে জেলার শ্রীমন্ত টাউন হলে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন অধ্যক্ষ এস.এম. ইস্রাফিল ও অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান।

বিডি ইউএসএ নিউজ২৪.কম/সো/২৬ মে ২০১৪

সর্বশেষ সংবাদ

মানবাধিকার এর আরো খবর