নয়াদিল্লিতে আজ বাংলাদেশ-ভারত জেসিসি বৈঠক

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শক কমিটির (জেসিসি) সপ্তম বৈঠক আজ রবিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গতকাল শনিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ সভায় যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। প্রসঙ্গত, বৈঠকটি গত ৩০ মে হওয়ার কথা ছিল।
 
কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হওয়ার পর এটিই হবে প্রথম সশরীরে জেসিসি বৈঠক। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সংযোগ, জ্বালানি, পানিসম্পদ, উন্নয়ন অংশীদারত্ব এবং আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। জেসিসি বৈঠকে যোগ দিতে গতকাল শনিবার নয়াদিল্লি গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। সেখানে গতকালই তিনি কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
 
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন দিল্লি সফরের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দিল্লিতে জেসিসি বৈঠকে দুই দেশের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। সেখানে জ্বালানি নিরাপত্তা ইস্যুতে আমরা এবার জোর দিচ্ছি। জেসিসি বৈঠকের আগে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক না হলেও পানি বণ্টন ইস্যুতে আলোচনা হবে। দুই দেশের অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, ব্যবসা, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো অভিন্ন সমস্যাগুলো এ সভায় স্থান পাবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন জানান, বাংলাদেশ প্রতিবেশী এবং বড় বন্ধু হিসেবে ভারতের কাছ থেকে জানতে চায় অনেক কিছুই। যার কিছু আলোচনা এখনো বাকি রয়ে গেছে। তাই, ভারত-বাংলাদেশ যৌথ পরামর্শক কমিটির সভার আয়োজন করা হয়েছে।
 
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আলোচনার বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) মাশফি বিনতে শামস বলেন, দ্বিপক্ষীয় এজেন্ডায় যা যা আছে সবই থাকছে। ট্রেড আছে, কানেক্টিভিটি আছে, কমার্স সেক্টর কোঅপারেশন, ওয়াটার কানেক্টিভিটি আছে, সেখানে তিস্তা, কুশিয়ারা, ছয়টি অভিন্ন নদীসহ সব থাকবে। এছাড়া আইসিটি, ফুড সিকিউরিটি রয়েছে, রিনিউয়েবল এনার্জি, ক্লাইমেট ইস্যু আছে। সচিব মাশফি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অনেকগুলো বৈঠক হয়েছে। ওই সব বৈঠকে যেসব বিষয় অমীমাংসিত ছিল বা আটকে রয়েছে সেগুলো নিয়েও আলোচনা হবে। এর আগে দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বৈঠকের ফলাফল নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।
 
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, মোমেন-জয়শঙ্কর বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর চূড়ান্ত হবে। তাছাড়া বৈঠকে তিস্তা প্রসঙ্গ তোলাসহ আলোচনাধীন কুশিয়ারা নদীর পানি উত্তোলন বিষয়টি সুরাহার জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের প্রস্তুতির তাগাদা দেবে ঢাকা। ২০১২ সালে নয়াদিল্লিতে প্রথম জেসিসি বৈঠকে বসে বাংলাদেশ-ভারত। গত ১০ বছরে মোট ছয়বার জেসিসি বৈঠক হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালে করোনা মহামারির মধ্যে ঢাকার নেতৃত্বে ভার্চুয়ালি জেসিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সপ্তম জেসিসি বৈঠকটি গত ৩০ মে হওয়ার কথা থাকলেও পরে সেটি পিছিয়ে যায়। জেসিসি বৈঠক শেষে আগামী সোমবার ড. মোমেনের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

পররাষ্ট্র-বাংলাদেশ এর আরো খবর