অশনি সংকেৎ বাজে, বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত?

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, দুর্ভিক্ষের  ভয় নেই দেশে যথেষ্ট খাদ্য মজুদ আছে। তবে সেই দিনই পরিকল্পনা মন্ত্রী জানালেন যে, দ্রব্যমূল্য বাড়লেও মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়েনি।
এই প্রেক্ষাপটে অমর্ত্য সেনের দুর্ভিক্ষ তথ্যের ফরমূলা মনে পড়ে গেল যে, খাদ্য সংকটে নয়, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না থাকলেই দুর্ভিক্ষের কারণ হয়।
 
আমরা এর আগে বিভিন্ন গণমাধমের মাধ্যমে জানতে পারছি যে, এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  বিভিন্ন বক্তব্যে দুর্ভিক্ষের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। বৈশ্বিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, বাংলাদেশে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সেজন্য এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে।
তিনি এক অনুষ্ঠানে দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ যাতে দুর্ভিক্ষের শিকার না হয় সেজন্য খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রতি ইঞ্চি জমি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করতে হবে।
 
সারা বিশ্বজুড়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ যখন দিশেহারা তখন ২০২৩ সালে সম্ভাব্য খাদ্য ঘাটতির আশংকায় এখনই নানা ধরনের সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।
কারণ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতেও খাদ্য সংকট জোরালো হবার নানারকম আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বা এফএও এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী বা ডবিব্লউএফপি এরই মধ্যে সতর্ক করে বলেছে যে ২০২৩ সালে বিশ্বের ৪৫টি দেশে তীব্র খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এবং ২০ কোটি মানুষের জন্য জরুরি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে দুর্ভিক্ষের আশংকা অনেকটা প্রবল।
 
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক তাদের রিপোর্টে বলেছে, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সারের ব্যাপক সংকট তৈরি হয়েছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে আফ্রিকা মহাদেশে খাদ্য উৎপাদন ২০ শতাংশ কমে যাবে।
 
চলতি বছরের জুন মাসে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্টোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন যে, ২০২২ সালে কয়েকটি দুর্ভিক্ষ ঘোষণার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং ২০২৩ সালে সেটি আরো খারাপ হতে পারে। 
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বেসলে সম্প্রতি এক বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ঘাটতির আশংকা প্রকাশ করেছেন। এজন্য তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অস্থিরতা এবং যুদ্ধ বিগ্রহকে দায়ী করে বলেছেন, পৃথিবীর ৪৫টি দেশ এখন 'দুর্ভিক্ষের দরজায় কড়া' নাড়ছে।
 
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাদ্য উৎপাদন কমে যাবে এবং এর একটি বড় কারণ হবে যুদ্ধ এবং সারের সংকট। 
জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টিও খাদ্য ঘাটতির কারণ হতে পারে। খাদ্যদ্রব্যের দাম যে হারে বাড়ছে তাতে অনেকের জন্য খাদ্য কেনা কঠিন হয়ে যাবে।
বাংলাদেশে লাগামছা দ্রব্যমূল্য দরিদ্র মানুষের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে। খাদ্যমন্ত্রী মানুষকে কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। খাদ্যমূল্য যদি অনেক বেড়ে তখন দরিদ্র মানুষ প্রয়োজনীয় খাবারটুকুও কিনে খেতে পারে না পারে।তবে দুর্ভিক্ষকে রোধ করা যাবে না। প্রমাণিত হবে যে খাদ্য সংকটে নয়,মানুষের ক্রয় ক্ষমতা না থাকাই দুর্ভিক্ষের কারণ।
 
 

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয় এর আরো খবর