বাজারের আগুন টিসিবির পণ্য কতটা নেভাবে

বাজারের আগুন নিভছে না তো বটেই বরং নানান অজুহাতে তা বেড়েই চলেছে।
বিভিন্ন সূত্র যাচাই করে জানা যাচ্ছে, গত কোরবানীর ঈদের আগেও রুই মাছের কেজি ছিল ২৬০ থেকে ২৮০ টাকার মধ্যে। সেই রুই মাছের দাম কেজিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকা দরে। কাতলাও কেজি ৩২০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০ টাকা। পাল্লা দিয়ে পাঙ্গাসও ধরে ফেলেছে তেলাপিয়া মাছকে। কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়।
আর চিংড়ি রয়ে গেছে আগের মতো বাড়তি দামেই, ৬০০/৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে নদীর চিংড়ি। আগের মতোই ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে আলু।
দাম বেড়েছে মুরগিরও। দাম কমেনি ডিমেরও। আর ডিম দিয়ে যারা মাংসের অভাব মাছে পূরণ করেন, তাদের জন্য বিষয়টা হতাশাজনক।
 
বিভিন্ন কাঁচাবাজারে সাদা ও লাল আলুর কেজি ৩০ টাকা। ভর্তার জন্য জনপ্রিয় জাম আলু ৪০ টাকা, দেশি ছোট ঝুরি আলু ৩৫ টাকা। কোরবানির পর পেঁয়াজের ঝাঁঝ কমলেও, বেড়েছে রসুনের দাম।
মধ্যবিত্ত এসব নিত্যপণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে।
গত, ছয় মাস ধরে দাম একটুও কমছে না। তাই এসব নিত্যপণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ।
ক্রেতার কেনার সামর্থ্যের মধ্যে শুধু শাক ও কিছু সবজি আছে। লাউ ছোঁয়া যাচ্ছে না।
মাছের বাজারও অনেক গরম।
মাছের বাজারেও অস্বস্তি স্পষ্ট। দর-দাম করে মাছ কিনতে দেখা যায় ক্রেতাদের। নদীর চিংড়ির কেজি ৬০০ টাকা, তবে লাল চিংড়ি ৫০০ টাকায় মিলছে। চাষের ট্যাংরা মাছ ৪৬০ টাকা।
গোশতোর দোকানে গরুর মাংস কেজি ৬৮০ টাকায কিক্রি হচ্ছ্। রমজানের ঈদের শুরুতে ডিম ছিল ৯৫ থেকে ১০০ টাকা ডজন। সেই ডিম এখন ১২৫ টাকা ডজন।
 
বাজারের সবচেয়ে আলোচিত পণ্য সয়াবীনের তেল নিয়ে তেলেসমাতি কিছুটা কমেছে। কারণ বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন।
গত ২১ জুলাই সরকার নির্ধারিত দামে সয়াবিন তেল বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। তবে এর প্রভাব খুব একটা নেই বাজারে।
৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৯৮০ টাকা।বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তেলে পাঁচ লিটার বোতল বিক্রি হচ্ছে ৯১০ টাকা দরে।
এমন আবস্থার প্রেক্ষাপটে  শুরু হচ্ছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিয়মিত পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম। সরকারি সংস্থাটি এবার মাসের শুরু থেকেই এ কার্যক্রম চালাবে। সোমবার থেকে সারা দেশের এক কোটি পরিবার কার্ডধারী পর্যায়ক্রমে টিসিবির ভর্তুকি মূল্যের পণ্য কিনতে পারবেন। আশা করা যাচ্ছে এমে নিম্নবিত্তের মানুষজনের জন্য অনেকটা উপকার হবে।
 
সংস্থাটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই দফায় নিম্ন আয়ের পরিবার কার্ডধারী ভোক্তা সর্বোচ্চ দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি ও ২ কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারবেন। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১১০ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকা, এক কেজি মসুর ডাল ৬৫ টাকা ও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২০ টাকা দরে বিক্রি হবে। তবে পেঁয়াজ বিক্রি হবে শুধুসিটি করপোরেশন এলাকা ও টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয় সংশ্লিষ্ট জেলাসমূহে।
আগের মতো ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি করছে না টিসিবি। শুধু পরিবার কার্ডের মাধ্যমে পরিবেশকের দোকানে বা নির্দিষ্ট স্থানে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। আগে পণ্য বিতরণে যে বিশৃঙ্খলা হতো, এতে তা অনেকটা কমে এসেছে। তবে গত জুন মাসের ২২ তারিখ থেকে পণ্য বিক্রির সময়ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিবার কার্ড বিতরণ শেষ করা যায়নি। অথচ পরিবার  ট্কারাকের সেওেলরর্ড বিতরণের জন্য তখন প্রায় দুই মাস বিরতির পর টিসিবি ভর্তুকি মূল্যের পণ্য দেওয়া শুরু করেছিল।
আমরা পরিবার কার্ডের মাধ্যমে পরিবেশকের দোকানে বা নির্দিষ্ট স্থানে পণ্য বিক্রি করার এই ব্যবস্থাকে স্বাগত জানাই। কারণ আগে রাস্তার উপরে ট্রাকের সেলে মানুষের ভোগান্তি হতো চরম।
 
দেশের ২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, রের পেছনে৮২ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ হয়েছে। ২১-২২তে ছিল ৬৬,৮২৫ কোটি টাকা।
সরকার প্রতিবছর কৃষিতেও ১৪/১৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তূকী দিয়ে যাচ্ছে।
মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করে সরকার যদি এইসব খাতে ভর্তুকী দিয়ে বিক্রয়মূল্য কমানো সম্ভব হয়। তবে মানুষের জীবনধারণের জন্য অত্যবশ্যকীয় পণ্য চাল-ডা’ল, তেল-লবন কেন কমদামে বিক্রি করার ব্যবস্থা থাকবে না।
সবার উপরে মানুষ,তাহার উপরে নাই। সুতরাং সেই মানুষকে বাঁচাতে ও ভালো রাখতে সম্ভাব্য সব কিছুই করতে হবে বলে আমরা মনে করি।
 
 

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয় এর আরো খবর