সম্পর্কের ৫০ বছর

বাংলাদেশ ও ভারত দক্ষিণ এশিয়ার দুটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র। এ দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্ত হয়ে যাওয়ার পর আজকের বাংলাদেশ পূর্ব পাকিস্তান হিসাবে পাকিস্তান প্রজাতন্ত্রের অংশ ছিল। পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক শাসনের নিষ্পেষণে নিষ্পেষিত হয়ে পূর্ব বাংলার মানুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যখন পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে তখন ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও তার সরকার যে সহায়তা করেছিল তা বাংলার মানুষ কখনো ভুলবে না। স্বাধীনতার সময় থেকে দুটি দেশ যে ঐক্যের ভিত্তিতে নিজেদের সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে চলেছে তা আজ পর্যন্ত বিদ্যমান রয়েছে। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক দল যেমন ভারতে তাদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম প্রদর্শন করে, ঠিক তেমনিভাবে ভারতীয় সংস্কৃতিক দল প্রায়শই বাংলাদেশের মানুষের সামনে তাদের কার্যক্রম উপস্থাপন করে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধ রচিত হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপিত হচ্ছে। সোমবার (৬ ডিসেম্বর) দুই দেশ যৌথভাবে পালন করছে মৈত্রী দিবস। ঢাকা ও দিল্লি ছাড়াও বিশ্বের ১৮টি দেশে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য চলতি বছর মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় ৬ ডিসেম্বর মৈত্রী দিবস (বন্ধুত্ব দিবস) হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ১০ দিন আগে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকারী প্রথম দেশগুলোর মধ্যে একটি। এই বছর ঢাকা ও দিল্লি ছাড়াও বিশ্বের ১৮টি দেশে মৈত্রী দিবস পালন করা হচ্ছে। এই দেশগুলো হলো বেলজিয়াম, কানাডা, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া, কাতার, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জাপান, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এতটা মজবুত ভিত্তির উপরে দাঁড়িয়ে আছে যে, পৃথিবীর অনেক দেশ এ সম্পর্ককে ঈর্ষান্বিত। অনেকেই চেষ্টা করছেন এ সম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরানোর। তাই উভয় দেশের সরকারপ্রধানদ্বয়ের উচিত এ বিষয়টিতে সচেতন থাকা।

সম্পাদকীয় এর আরো খবর