প্রসঙ্গ : সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব
ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা

সরকারি চাকরিবিধিতে পাঁচ বছর পরপর সব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সম্পদের হিসাব দেওয়া এবং সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার বিধান থাকলেও তা কেউ মানছেন না। এই প্রেক্ষাপটে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠিয়ে বিধিমালা কার্যকর করার জন্য সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
 
সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’ এর বিধি ১১, ১২ ও ১৩-তে সরকারি কর্মচারীদের স্থাবর সম্পত্তি অর্জন, বিক্রয় ও সম্পদ বিবরণী দাখিলের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুশাসন নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী উল্লিখিত বিধিসমূহ কার্যকরভাবে কর্মকর্তাদের অনুসরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে জোর নির্দেশনা দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান এই হিসাব দেয়ার ব্যবস্থা কার্যকর হোক।
 
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দেয়ার আইন অনেক পুরনো। কিন্তু এতদিন তারা সেই আইন মানেননি। তারা সম্পদের হিসাব দেয়নি। তারপরও এখন যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাকে সাধুবাদ জানাই। হিসাব ও তা হালনাগাদ করা জরুরি। কিন্তু এতে করে স্বচ্ছতা কতটুকু নিশ্চিত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়!
 
সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের হিসাব দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার কিছু মত রয়েছে- তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মাচারীদের সম্পদের হিসাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দেয়া হলেও, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব প্রদানের ক্ষেত্রে তা অবশ্যই দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিলের বিধান রাখাটা সময়ে দাবি।
 
সেই সঙ্গে এটা কার্যকর ও নিয়মিত হতে হবে। এই সম্পদের শুধু হিসাব নিয়ে রেখে দিলেই চলবে না।  প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অনুসন্ধান ও তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
 
শুধু সম্পদ বিবরণী পেশ করলেই হবে না, তা সঠিক কিনা সেটা যাচাইয়ের ব্যবস্থাও থাকতে হবে। তা না হলে সম্পদ বিবরণী জমা দেয়ার কোনো মানেই হবে না।
 
 

সম্পাদকীয় এর আরো খবর