দ্রব‍্যমূল‍্যের দাম বাড়ার ব‍্যাখা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা চাই কোনো রকম ভীতিকর পরিবেশের তৈরি না করে সম্মিলিত ভাবে এই সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে। বুধবার (১৮ মে) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের একথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বৈঠক থেকে বেরিয়ে দ্রব‍্যমূল‍্যের দাম কেন বাড়ল তার ব‍্যাখা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের ভোজ্যতেলের ৯০ ভাগ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যে কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে এর দাম। বিশেষ করে তেলের দাম বৃদ্ধির বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়া আছে সে প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দাম নির্ধারণ করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে আমাদের দেশেও দাম বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করছি বিকল্প পদ্ধতিতে কিভাবে এই সমস্যার মোকাবেলা করা যায়। সেটা আমদানি করে হোক অথবা আমাদের দেশে উৎপাদন বৃদ্ধি করে হোক। মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের যে রাইস ব্র্যান্ড ওয়েল উৎপাদন হয়। সেটাকে যদি ভালোভাবে উৎসাহ দেওয়া হয় তাহলে ভোজ্যতেলের প্রায় ২৫ ভাগ এখান থেকে পাওয়া সম্ভব। এখান থেকে প্রায় সাত লাখ টন তেল উৎপাদন সম্ভব। এই তেলের খরচ একটু বেশি পড়লেও গুণগতমান অনেক ভালো। মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে সংকট সৃষ্টি হলেও এখান থেকে বেশ কিছু পাওয়া বেরিয়ে আসছে। খুঁজতে হচ্ছে নতুন নতুন পথ। আমরা চেষ্টা করছি আমদানি বিকল্প পথ খুঁজে বের করতে। পেঁয়াজের দাম নিয়ে চিন্তা করার কিছু নাই। মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিকভাবে একটি মনিটরিং করছে। তিনি বলেন, বর্তমানে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়লেও সেটা ক্রয়সীমার মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হতো তাহলে দেশের কৃষকরা দাম ফেতনা। এখানেও আমাদের বিভিন্ন ব্যবস্থা নিতে হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গম সূর্যমুখী আমদানি করা হতো ইউক্রেন থেকে কিন্তু এখন সেটা বন্ধ রয়েছে যার প্রভাব বাজারে পড়েছে। তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব বিভিন্ন সেক্টরে পরে। তবে দ্রব্যমূল্যের এই পরিস্থিতি নিয়ে কিছু কিছু রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো হতে পারে। বাস্তবতা হলো এটি রাজনৈতিক বক্তব্য বাস্তবের সঙ্গে এর কোন মিল নাই। অভিযান চালিয়ে যেখানে তেল অতিরিক্ত মজুদ পাওয়া যাচ্ছে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি, তবে এক্ষেত্রে আমাদের নজর রাখতে হয় ব্যবস্থা নিতে গিয়ে বাজারে যেন প্রকৃতির সৃষ্টি না হয় তাহলে বাজারের সংকট সৃষ্টি হতে পারে। ইউক্রেন ও ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হওয়ার পর আমরা চেষ্টা করছি আরও অন্তত পাঁচটি গম উৎপাদনকারী দেশের সঙ্গে যেখান থেকে আমদানি করা সম্ভব হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

অর্থ ও বাণিজ্য এর আরো খবর