সর্বশেষআঞ্চলিক

কক্সবাজারে হামুনের আঘাতে ৩ জন নিহত হয়েছেন

গত মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’। সন্ধ্যা ৭টার পর মহেশখালী-কুতুবদিয়ার উপকূল থেকে ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে আসতে শুরু করে।

কক্সবাজার
কক্সবাজার

এ সময় প্রচণ্ড বাতাসের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। দুই ঘণ্টা পর ‘হামুন’ দুর্বল হয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে কোকসাবাজার উপকূল অতিক্রম করার পর ভূমি নিম্নচাপে পরিণত হয়। মাঝখানেও থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। উপকূল অতিক্রম করতে গিয়ে কক্সবাজারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে গাছপালা উড়ে গেছে এবং মাটি ও আধা মাটির ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।

এদিকে কক্সবাজারে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় কাউন্সিলর ওসমান সরওয়ার টিপু সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কাউন্সিলর ওসমান বলেন, কক্সবাজার শহরে দেয়াল ধসে একজন ও দুইজন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে পৌরসভার ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে দেয়াল ধসে আব্দুল খালেক (৩৮) নিহত হয়েছেন। অপরদিকে মহেশখালী উপজেলার বাদো মহেশখালী ইউনিয়নের মুন্সির দেইল গ্রামে হারাধন নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। চকরিয়া উপজেলার বদাখালীতে আসকার আলী নামে আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে।

কক্সবাজার
কক্সবাজার

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগ যখন ১২০ কিলোমিটার/ঘন্টা বেগে ভূমি স্পর্শ করে, তখন গতি দ্রুত কমে যায়। রাত ১০টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আজিজুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে একক বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা ঝড়ো হাওয়ার আকারে বেড়ে ৮৮ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে।

উপকূলের নিচু এলাকাগুলো স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ফুট উচ্চতার বন্যায় প্লাবিত হয়।কক্সবাজার প্রতিনিধি সৈয়দ আলমগীর রাত ১২টায় জানান, সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত উপকূল ও এর পশ্চিমাঞ্চলে প্রচণ্ড ঝড় বয়ে যায়। সেই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি হয়। ঝড়ের কবলে পড়ে কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ অনেক এলাকায় গাছ উপড়ে পড়েছে।

এ কারণে সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থা বিরাজ করছে। রাত ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুরো জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে সর্বত্র এক ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে।কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান জানান, ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে জেলায় বাড়িঘর ও গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে আজ (বুধবার) বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।

কক্সবাজার
কক্সবাজার

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ ইমাম উদ্দিন জানান, রাত ১০টার পর ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ উপকূল অতিক্রম করে দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে এর প্রভাবে কক্সবাজার উপকূলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, দুই ঘণ্টাব্যাপী ঘূর্ণিঝড়টি গড়ে ১০০ কিলোমিটার বেগে কোয়াকবাজার উপকূল অতিক্রম করেছে। এর সর্বোচ্চ গতি ছিল ১৪৮ কিলোমিটার।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ওয়াহিদ রুবেল জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অফিস থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখতে পান। সড়কের দুই পাশে ব্যাংক, বীমা কোম্পানি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ছোট-বড় সাইনবোর্ড বাতাসে উড়ে গিয়ে সড়কে পড়ে যায়। টিন সহ হালকা পণ্য উড়তে পারে এবং এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে। গাছের ডাল ভেঙে গেছে। নগরীর অনেক শহরতলীতে গাছপালা পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে (ক্রমিক নম্বর-১১) বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নতুন খালী, লক্ষপুর, ফেনী, বরগুনা, পটুখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল এলাকায় আবহাওয়া অধিদপ্তর এর উপকূলীয় দ্বীপ এবং পাহাড়ের নিচু এলাকাগুলো স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি।৫ ফুটের বেশি উচ্চতায় বাতাস পানিতে তলিয়ে যায়।

কক্সবাজার
কক্সবাজার

এদিকে সারাদেশে নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ১০০টি জেলার ১৫ লাখ বাসিন্দাকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও রাত ৮.৩০টা পর্যন্ত ৬৫ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রয়ে গেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জনুর রহমান রাত ৯টায় এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগের কারণে অনেক জেলার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে হয়েছে।এদিকে ‘হামুনার’ প্রভাবে দেশের অন্যান্য জেলায় বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া মনিটরিং টিম জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ প্রবল শক্তি নিয়ে মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও এর আশপাশের বাজার এলাকা অতিক্রম করেছে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এটি দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। আবহাওয়া বিশ্লেষক মোহাম্মদ কামাল পলাশ বলেন, চার দিন আগে ঘূর্ণিঝড় পূর্ণিমার আঘাত হানে এবং গতি পায়নি। সাগরে ভাটা পড়েছে।

আরও পড়ুন

রাজধানীর মাতুয়াইলে বাসের ধাক্কায় মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button