সর্বশেষবাণিজ্য

আলু ৬৫, পেঁয়াজ ১০০ রংপুরে আলু,পেঁয়াজের বাজার আবার অস্থির

রংপুরে আলু,পেঁয়াজের বাজার আবার অস্থির

বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ ও রংপুরে আশপাশের উপজেলায় আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে আলু ও পেঁয়াজের বাজার।

রংপুরে

সরকার উভয় পণ্যের দাম নির্ধারণ করলেও তা মানছে না ব্যবসায়ীরা। ভোক্তারা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর আলু ৩৬ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজের দাম ৬৫ টাকা কেজি নির্ধারণ করেছিল সরকার। তখন খুচরা বাজারে আলু সর্বোচ্চ ৫০ টাকা ও পেঁয়াজ ৭৫ টাকা দরে ​​বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিন পর খুচরা বাজারে আলু ৪০ টাকা ও পেঁয়াজ ৬৮ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে বর্তমানে আলু বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৫ টাকা কেজি এবং দেশি পেঁয়াজ ১০০ টাকায়। তবে দাম বাড়লেও বাজারে প্রশাসনিক কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

সরকার নির্ধারিত আলুর মূল্য বাস্তবায়ন হয়নি:

শুক্রবার রংপুরে বিভিন্ন খুচরা বাজারে আলু বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ৬৫ ও ৫০ টাকা কেজি দরে। ফ্রিজার পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের বিক্রি হয় ৪৬ থেকে ৫২ টাকায়। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে আলু চাষিরা বিক্রি করেছেন প্রতি কেজি ১০ থেকে ১১ টাকায়। কৃষকরা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত আলুর বাজার বছরের শেষ নাগাদ উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ করবে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে বদরগঞ্জের আমরুলবাড়ী গ্রামের কৃষক তৈয়ব আলী বলেন, ‘সরকার আলু-পেঁয়াজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে।’ ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াতে প্রস্তুত। এক কেজি আলু বা পেঁয়াজ কিনলেই বুক ফেটে যায় গেইলের। দেখার দরকার নেই।

রংপুরে
উৎপাদন এলাকার ক্রেতাদের আলু কিনতে হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ টাকায়।

রংপুরে কৃষি সম্প্রসারণ ও বিপণন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ৫৩ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। ১৬ লাখ ৪ হাজার ৫৫৬ মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। জেলায় বার্ষিক আলুর চাহিদা ১ লাখ ২৭ হাজার ৭০৯ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত জেলার ৩৯টি হিমাগারে ১ লাখ ৫ হাজার টন আলু মজুদ করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই বীজ আলু।

আলুর আকাশছোঁয়া দাম এবার আলু চাষে প্রভাব ফেলবে রংপুরে । আজ তারাগঞ্জের কিষাণ, সিনহা, ব্রাদার্স, এনএন হিমাগাড়া, রংপুর ও বদরগঞ্জের শাহজালাল হিমাগার পরিদর্শন করা হয়। বাল্কে, কার্ডিনাল আলু 46 টাকা এবং শিলা আলু 52 টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬৫ টাকায়।

সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে আলুর দাম ‘নির্ধারণ’।

তারাগঞ্জের চুট মেনানগর গ্রামের আলু চাষি রূপচাঁদ আলী জানান, গত মৌসুমে আলু রোপণ থেকে তোলা পর্যন্ত প্রতি কেজি আলু উৎপাদন খরচ ছিল ৯ টাকা। রংপুরে এরপর বিক্রি হয় ১০ থেকে ১১ টাকায়। ব্যবসায়ীরা সেই দামে আলু কিনে ফ্রিজে রেখে এখন ৫০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি করছেন। সংগ্রহ, কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া এবং অন্যান্য খরচ সহ, এতে ব্যবসায়ীদের প্রতি কেজি সর্বোচ্চ 20 টাকা খরচ হয়েছে।

তারাগঞ্জের রিকশাচালক আবদুর রহিম বলেন, “কোন আয় নেই। রংপুরে বাজারোত গেল জিনিসের দাম শুনে মাথা খারাপ হয়ে যায়। ভোট দেবেন কি দেবেন না তা নিয়ে সবাই ব্যস্ত। যারা জিনিসের দাম বাড়াতে চায় সরকার কি তাদের কথা চিন্তা করে?

বদরগঞ্জ বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার দাম সীমাবদ্ধ করে কী করবে? একটি দোলনা কেনার চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল। দুশো টাকা পেয়ে বিক্রি করে। আমাদের কি ভুল? কিন্তু সরকারি লোকজন এসে আমাদের জরিমানা করেছে। ‘সংকোচ করবেন না।’

রংপুরে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম কে বলেন, হিমাগারে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণ, উৎপাদন, পরিবহন, শ্রম, বস্তা ও ওজন বাবদ খরচ হয় প্রায় ২০ টাকা। বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা পর্যন্ত। বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, আলু বা পেঁয়াজ নির্ধারিত দামেই বিক্রি করতে হবে। কেউ বেশি দামে বিক্রি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

আগামীকাল থেকে সারাদেশে ছাড়ের দামে পণ্য বিক্রি শুরু

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button